
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি চূড়ান্ত রায়। এতে করে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ও হতাশা বাড়ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে। অপহরণের তিনদিন পর তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে শীতলক্ষ্যা নদীতে, যা সে সময় সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এদিকে, ঘটনার ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি, নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের, নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার নুপুর এবং তার মেয়ে রোজা আক্তার জান্নাতসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, অপহরণের পর সাতজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের মরদেহ মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০১৮ সালের আগস্টে উচ্চ আদালত ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ‘লিভ টু আপিল’ কার্যক্রমে আটকে রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময়েও রায় কার্যকর হয়নি।
নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নুপুর বলেন, “আমার মেয়ে জন্মের পর থেকেই বাবাকে দেখেনি। অন্যদের বাবাকে দেখে সে কাঁদে। কিন্তু যারা তাকে এতিম করেছে, তাদের শাস্তি এখনো চোখে দেখলাম না।”
অন্যদিকে, নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, “সবকিছু প্রমাণিত হওয়ার পরও রায় কার্যকর হচ্ছে না। আমরা দ্রুত বিচার বাস্তবায়ন চাই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের বলেন, “জীবদ্দশায় বিচার দেখে যেতে পারবো কিনা, সেটাও সন্দেহ।”
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত নজরুল ইসলামের সঙ্গে দণ্ডিত নূর হোসেনের পূর্ব দ্বন্দ্ব ছিল, যা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন আদালতে হাজিরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন নজরুল ইসলাম। এরপর আর জীবিত ফিরে আসেননি তিনি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত রায় কার্যকর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

