
সিদ্ধিরগঞ্জে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডিএনডি লেকপাড়ের সৌন্দর্য ও সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ এখন পুরোপুরি হকারদের দখলে। সিটি করপোরেশনের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে বিনোদনপ্রেমী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী এলাকায় ডিএনডি লেকপারের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ফুটপাত ও চলাচলের রাস্তাটি বেদখল হয়ে গেছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশে হকাররা কাঁচাবাজার বসিয়েছেন, আবার কোথাও ছোট ছোট টং দোকান সাজিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এসব দখল হওয়া দোকান থেকে একটি চাঁদাবাজ চক্র নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করছে। এতে বিনোদন কেন্দ্রটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে এ বিষয়ে নাসিক কর্তৃপক্ষের নিরবতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। তাদের মতে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডিএনডি লেকপাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ বেদখল হওয়ার পিছনে নাসিকের উদাসিনতাই দায়ি। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একাধিক ভিডিও।
এর কারণে শুধু ৭ নং ওয়ার্ড নয়, সিদ্ধিরগঞ্জপুলেও হকার পুনর্বাসনের নামে লেকপাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের অংশের বৃক্ষ নিধন করে সিদ্ধিরগঞ্জপুল সিটি বাজার করা হয়েছে। যা নিয়ে নানা নাটকিয়তার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে লেকটিকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়নি। তা সত্ত্বেও প্রতিদিন প্রশান্তির খোঁজে অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমান লেকপাড়ে।
লেকের পূর্ব পাশে রয়েছে আদমজী-নারায়ণগঞ্জ সড়ক, আর পশ্চিম পাশে সিটি করপোরেশনের নির্মিত নতুন সড়ক। আদমজী ইপিজেডসহ আশপাশের শিল্প-কারখানার কারণে এই দুই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভারী যানবাহন ও হাজার হাজার শ্রমিক চলাচল করে, ফলে সড়ক দুটির গুরুত্ব অপরিসীম।
কদমতলী এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান বলেন, শত কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য গড়ে তোলা এই লেকপাড় ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যত হকারদের দখলে চলে গেছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবেই এই সৌন্দর্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তার ভাষায়, যেখানে সাধারণ মানুষ একটু অবসর কাটাতে আসেন এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন, সেখানে একশ্রেণির মানুষ অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন, আর একটি চক্র সেই দোকান থেকে মাসোহারা তুলে পকেট ভারী করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের কার্যকর তদারকির অভাবেই দিন দিন লেকপাড় হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। তবে তারা মনে করেন, কর্তৃপক্ষের আন্তরিক উদ্যোগ থাকলে এই লেকপার্ককে হকারমুক্ত করা মোটেও কঠিন নয়।
এ লক্ষে এলাকাবাসী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং লেকপাড়ের দুই পাশের ফুটপাতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করে এলাকার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে অভিযান চালানো হবে।

