স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

জেলাজুড়ে রাজনীতি

সবকিছু ঠিক থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ মাসের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার আভাসও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পর্যায়ক্রমে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে রাজনৈতিক দলগুলোও।

সরকারে থাকা বিএনপি বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রার্থী নির্ধারণে কাজ করছে দল। দলীয় প্রতীক না থাকলেও একজনকে দলীয় সমর্থন দেবার পরিকল্পনাই রয়েছে তাদের। তবে, দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে তাতে বাধা দেবার চিন্তা এখনই তাদের নেই।

অন্যদিকে, বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক কাজ অনেক এগিয়ে রেখেছে। ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তও হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রচারণার কাজও চলছে ঠিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই।

এছাড়া, গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) সক্ষমতা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে টার্গেট করেছে। এসব জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্তও করে ফেলেছেন। তবে, তফসিল ঘোষণার পরই তারা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন। যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলেও জানান দলটির নেতারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও স্থানীয় সরকারে তারা এককভাবে যাওয়ার চিন্তা করছেন বলে জানান দল দু’টির নেতারা। তবে, নির্বাচনের পরও জোটগতভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে চালিয়ে যাওয়া জামায়াত ও এনসিপির সিদ্ধান্ত শেষ মুহুর্তে বদলানোর সম্ভবনাও রয়েছে। অন্তত কিছু জায়গায় এমন ঘটতে পারে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “আমরা নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। মাত্র একটি জাতীয় নির্বাচন হলো। একটা প্রস্তুতি তো আমাদের ছয় মাস আগেই নেওয়া ছিল এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি রয়েছে।”

দলীয় নেতা-কর্মীদেরও আগে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দেওয়া ছিল বলেও জানান বিএনপির এ নেতা।

তবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “মাঠপর্যায়ে জরিপ চলছে। তারপরে দল থেকে একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।”

বিএনপির একাধিক নেতা একই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইতোমধ্যেই। এ ব্যাপারে সমন্বয় করে সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে মামুন বলেন, “দলীয় একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। দল যদি সমর্থন দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে তাহলে সমর্থন হবে, আর যদি দল মনে করে একটা প্রক্রিয়া আমরা অবলম্বন করবো, যাতে দলের প্রতি সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা যাতে কম হয় এবং নিজেদের দলীয় সমন্বয় যেন দৃঢ় হয়, সে প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করা হবে।”

অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদেও রয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পালন করছে, পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সেগুলো নিয়ে মাঠে কাজ করছে।”

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতা আব্দুল মোমিন। জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক মোমিন বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুশৃঙ্খল সংগঠন। এখানে সংগঠনের পক্ষ থেকে যাদেরকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, তারা অলরেডি তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের এখানে সংগঠনের বাইরে কোনো প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। যারা প্রার্থী হওয়ার, তারা প্রার্থী হয়ে গেছে এটা হলো আমাদের এক নম্বর প্রস্তুতি।”

“জামায়াতে ইসলামী সবসময় সামাজিক কাজকর্ম নিয়েই থাকে। তো এই কাজগুলো নির্বাচনের কারণে অন্যরা করতে চেষ্টা করে, আমরা এটা আগের থেকেই করি। তো এটাও অব্যাহত, আর মোটামুটি আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং অব্যাহত আছে।”

এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান। তিনি বলেন, “আমাদের প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে সারা নারায়গঞ্জে। প্রার্থীদের কারও কারও নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েও গেছে। কেন্দ্র থেকেও নাম ঘোষণার নির্দেশনা আছে। আমরা সময়মতো ঘোষণা করবো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *