
লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মর্জিনা বেগম (৩৯) নামের এক নারী সদস্য বিজ্ঞ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রের প্রধান গ্রেফতারকৃত আসামী হলেন- উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী (৫৪) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার নোয়াগাও এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির আনজারা এলাকায় বসবাস করছিলেন।
গত (১৭ মার্চ ) সন্ধ্যায় উত্তম সরকার ওরফে সুমন, আসলাম, আরিফ মোল্লা ও রাজু মিয়াসহ ৫-৬ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ৩টি গাড়িতে এসে ইদ্রিস আলীর বাসা ঘিরে ফেলে। পরে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে চোখ বেঁধে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। এসময় সন্ত্রাসীরা তার পাসপোর্ট, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার দুই দিন পর সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীকে মারধর করে সেই নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেশে থাকা তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কাছে ‘ইমোতে’ ভিডিও কল করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিলে বাধ্য হয়ে ফাতেমা বেগম স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে ইসলামী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা পাঠান।
টাকা পাওয়ার পরও খান্ত হয়নি চক্রটি। তারা অতিরিক্ত আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করে ইদ্রিস আলীর ওপর লোহার রড দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তার ডান পা ভেঙে দেয়।
দিনে মাত্র একটি রুটি ও এক বোতল পানি দিয়ে তাকে আধমরা অবস্থায় ১ মাস ১৪ দিন আটকে রাখা হয়। স্বামীর জীবন বাঁচাতে ফাতেমা বেগম পরবর্তীতে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে আসামীদের আরও ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান। সর্বমোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর গত (৮ এপ্রিল) সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগীকে ত্রিপোলির মদিনা এলাকার সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় গত (২২ জুলাই ২০২৬) দেশে ফেরেন ইদ্রিস আলী। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করলে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, চক্রটি লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের টার্গেট করে আসছিল। ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আসামীদের আদালতে পাঠানো হলে মর্জিনা বেগম খাসকামরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এই চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার করতে পিবিআই-এর একাধিক দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

