রাজিবের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন ইউনাইটেড গার্মেন্টসের শ্রমিকরা

জেলাজুড়ে রাজনীতি

দীর্ঘদিনের শ্রমিক ছাঁটাই ও বেতন বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত নারায়ণগঞ্জের ইউনাইটেড গার্মেন্টস (পুলিশ লাইন) শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।

তাঁর উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা এবং আগামী রোববার মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন শ্রমিকরা।
‎
‎মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে চাষাড়া মোড়ে ব্যস্ত সড়ক অবরোধ করে বিকেএমইএর সামনে বিক্ষোভ করেন ইউনাইটেড গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
‎
‎এ সময় সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাস্থলে যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব। তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।

শ্রমিকরা তাঁকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য বেতন না পাওয়া এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে তাঁরা আন্দোলন করে আসছেন।
‎
‎পরে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে রাজিব বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। এরপর তিনি শ্রমিকদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।

সেখানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আগামী রোববার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। মাশুকুল ইসলাম রাজিবের আশ্বাসে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

‎এ বিষয়ে মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, “চাষাড়া মোড়ের সড়ক বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিষয়টি উপলব্ধি করেই আমি সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের সমস্যার কথা জানতে চাই।

তখন জানতে পারি, তাঁদের দীর্ঘদিনের কিছু দাবি ও অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানাই এবং সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিই। শ্রমিকরা আমাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগামী রোববার মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বসার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা চাই, আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধান আসুক।

শ্রমিকরা যা ইচ্ছা তা করবেন, সেটি যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি মালিকপক্ষও শ্রমিকদের ওপর কোনো অন্যায় বা আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবেন না। আইনের মধ্যে থেকে উভয় পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
‎
‎নিজের উদ্যোগের বিষয়ে রাজিব বলেন, “আমি আজ সেখানে গিয়েছি একজন নারায়ণগঞ্জের নাগরিক হিসেবে, পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও দায়িত্ববোধ থেকেও।

অনেক সময় আমরা নানা সমস্যা দেখেও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষের দুর্ভোগ চোখে পড়ার পর নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই এগিয়ে এসেছি। শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানাই, তাঁরা আমাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকও বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন।”
‎
‎তিনি বলেন, চলার পথে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সততা, নীতি-নৈতিকতা ও আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।