
মোসাঃ মুনমুন আক্তার (৩২), পিতা- আঃ সামাদ, স্বামী মোঃ রুবেল, সাং-মিজমিজি পশ্চিমপাড়া, চেয়ারম্যান বাড়ী,
থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ বাদিনী হয়ে ০৩(তিন) জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলার এজাহার ও সাক্ষ্য প্রমাণে জানা যায় যে, মোঃ ইয়াসিন (২৪), পিতা- মোঃ দুলাল মিয়া, সাং- মিজমিজি দক্ষিণপাড়া, থানা-সিদ্ধিরগন্জ, জেলা-নারায়ণগন্জ এর সাথে বিগত ৫ বৎসর পূর্বে বাদিনীর বোন লামিয়া আক্তার (২২) এর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের পর হতে ইয়াসিন প্রায় সময় তার স্ত্রী লামিয়াকে মারধর করতো। আসামি মোঃ ইয়াসিন এর ঔরষে আব্দুল্লাহ নামে একটি ছেলে সন্তান হয়। মোঃ ইয়াসিন একজন নেশাগ্রস্ত ও ভবঘুরে এবং সে তার স্ত্রী ও সন্তানের কোন ভরন পোষণ করতো না। এ নিয়ে ডিসিস্ট লামিয়ার সাথে ইয়াসিনের প্রায় সময় ঝগড়া ও মারামারি হতো। এ কারণে লামিয়া আক্তার(২২) তার ছেলে আব্দুল্লাহ (২) ও তার বড় বোন স্বপ্না আক্তার (৩৫) একত্রে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি পশ্চিমপাড়া পুকুরপাড় জনৈক মোক্তার এর বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করতো এবং লামিয়া আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ পুল সাকিনের মুজিব ফ্যাশন গার্মেন্টস এ হেলপার হিসাবে চাকুরী করতো। ডিসিস্ট লামিয়ার বড় বোন বাসায় থেকে সাংসারিক কাজকর্ম করতো ও তার ভাগিনা আব্দুল্লাহ (২) কে দেখাশুনা করতো। আসামি মোঃ ইয়াসিন প্রায় সময় তার বোনের
ভাড়াটিয়া বাড়ীতে এসে তার বোনের নিকট টাকা দাবী করতো। ডিসিস্ট লামিয়া আসামির দাবীকৃত টাকা প্রদান করতে অস্বীকার করলে আসামি মোঃ ইয়াসিন তার বোনকে শারীরিক নির্যাতন সহ খুন জখম করার হুমকি প্রদান করতো। গত ০৭/০৪/২০২৫ তারিখ বেলা অনুমান ০১:০০ ঘটিকার সময় বাদিনী মুনমুন ও তার স্বামী তার বোনের ভাড়াটিয়া বাসায় গিয়ে বোনদের সাথে কথা বলে বাসায় চলে আসেন। এরপর হতে তার বোনের মোবাইলে কল করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন কিন্তু তার বোনের মোবাইল ফোনের সুইচ বন্ধ পান। তিনি ও তার আত্মীয় স্বজন তার বোনদ্বয় ও ভাগিনার
বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেন কিন্তু কোথাও তাদের খুঁজে পাননি। অবশেষে ১১/০৪/২০২৫ খ্রিঃ বেলা অনুমান ১১:০০ ঘটিকার সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি পশ্চিমপাড়া সাকিনের জনৈক হাজী আব্দুল কাদির এর বাড়ীর সামনে রাস্তার পাশে দুর্গন্ধ পেয়ে জনৈক জুবায়ের হোসেন লিখন তার বাড়ীর সামনে গিয়ে ড্রেনের পার্শ্বে ময়লা আবর্জনার স্তুপের মধ্যে একটি মানুয়ের হাত দেখে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সংবাদ প্রদান করলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই (নিঃ)মোঃ মামুন খালাসী ঘটনাস্থলে এসে বেলা ১১:৩০ ঘটিকার সময় সঙ্গীয় ফোর্স ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় ময়লার স্তুপ সরিয়ে বাদিনীর ০২ বোন ও ভাগিনাসহ ০৩টি মৃতদেহ পান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ডিসিস্টদের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকালীন সময় স্বপ্না আক্তার এর মাথা হতে দেহ ও দুই পা দ্বিখন্ডিত কাটা, লামিয়া আক্তারের মাথা হতে দেহ দ্বিখন্ডিত, ভাগিনা আব্দুল্লাহ (২) এর গলায় কালো সুতা (কইতন) দিয়া পেঁচানো যা লম্বা অনুমান ০১ ফুট উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পুলিশ মৃতদেহগুলির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্নয়ের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
০৭/০৪/২০২৫ খ্রিঃ বেলা অনুমান ০১:৩০ ঘটিকার পর হতে ১১/০৪/২০২৫ খ্রিঃ এর মধ্যে আসামিগণ পরস্পর যোগ সাজসে পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব প্রত্যুষ কুমার মজুমদার মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ইয়াসিন(২৪) কে অদ্য ১২/০৪/২৫ খ্রিঃ মিজমিজি পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার দোষ স্বীকার করেছে। আসামি মোঃ ইয়াসিনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত ০৫(পাঁচ) দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

